Menu

শহীদ আবুল কালাম আজাদ এর সহধর্মীনি লেখা (ডাঃ শিমুল এমপির বোন)

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

An Unsung Hero & Former Rab Director Intelligence Lt Col Mohammad Azad BPM, PPM. মিসেস সুরাইয়া সুলতানা শর্মী ( Suriya Sultana) #

একজন_সাহসীর_চলে_যাওয়া ##ডোন্ট ফায়ার ডোন্ট টাচ: জঙ্গিবাদ নির্মূলে শহীদ আজাদের আত্মহ্নতি স্মরণে: কীর্তিমানের মৃত্যু নাই ।মানুষ বাঁচে তার কর্মে ।বয়সে নয় ।পৃথিবীতে কোটি কোটি মানুষের জন্ম হয়েছে। আবার মৃত্যু ঘটেছে,কিন্তু কজনকে সবাই মনে রেখেছে। ইউরোপীয়ান,আমেরিকানরা যেভাবে তাদের কীর্তিমানদের স্মরণ করেন।তাদের আত্মত্যাগ শ্রদ্ধা ভক্তি সহকারে শিকার করেন ।আমরা ঠিক ততো তাড়াতাড়ি তাদের কে ভুলে যায় ।প্রাচীন ও মধ্যযুগে তারা আমাদের দেশে আসত ভাত ভিক্ষার জন্য । আমাদের এখন কি অবস্থা তা সকলে অবগত আছেন। ##রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক ডঃ শামসুজ্জোহা হচ্ছেন ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবী। উত্তেজিত শিক্ষার্থীদের জীবন রক্ষার্থে যুদ্ধংদেহী পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বন্দুকের নলের মুখে দাঁড়িয়ে ডঃ শামসুজ্জোহা “ডোন্ট ফায়ার don’t ফায়ার” বলতে বলতে এগিয়ে যান।হায়েনাদের ফায়ারে তিনি শহীদ হন। ##তদ্রুপ লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবুল কালাম আজাদ ঘটনাস্থলে হঠাৎ লক্ষ্য করেন যে,পুলিশের একজন সদস্য বোমাসদৃশ্য পলিথিন মোড়ানো একটি বস্তু লাঠি দিয়ে দেখছেন ।এই অবস্থায় কর্নেল আজাদ “ডোন্ট টাচ ডোন্ট টাচ” বলতে-বলতে এগিয়ে যান তাঁর টিমমেটদের জীবন রক্ষার্থে । কর্নেল আজাদ এর জন্ম 1975 সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়ন ।জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ইংরেজিতে এমএ করেন ।1996 সালে 34 তম ব্যাচ এ বি এম এ লং কোর্স সম্পন্ন করেন ।2011 সালে এলিট ফোর্স খ্যাত র্যাব 12 এর কোম্পানি কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পান। ওই বছরই তাকে পদোন্নতি দিয়ে গোয়েন্দা বিভাগের উপ-পরিচালক করা হয়। 2013 সালে তিনি রাবের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান হন। ###অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুলিশের সর্বোচ্চ পদক বিপিএম মরণোত্তর পান ## কর্নেল আজাদ 2000 সালের 30 ডিসেম্বর উত্তরবঙ্গের প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব,স্বাধীনতার অন্যতম সংগঠক মইনুদ্দিন আহমেদ মন্টু ডাক্তারের সুযোগ্য কন্যা সুরাইয়া সুলতানা শর্মির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। 2017 সালের 25 মার্চ সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানা এলাকার পাঠানপাড়া আতিয়া মহল নামে একটি বাড়িতে জঙ্গিদের অবস্থানের খবর পেয়ে বাড়িটি ঘিরে রাখে পুলিশ।পরদিন সকালে ওই বাড়ি থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছোড়ে জঙ্গিরা ।সেদিন ঢাকা থেকে সোয়াত নামক বিশেষ টিম কে জঙ্গি দমন করার জন্য পাঠানো হয়। কিন্তু পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণে আনে ।25 মার্চ আতিয়া মহলের পাশে দফায় দফায় বিস্ফোরণ ঘটে ।পুলিশের একজন সদস্যকে সতর্ক করতে গিয়ে র্যাবের গোয়েন্দা প্রধান কর্নেল আজাদ সহ আরো কয়েকজন বোমা বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হন। আজাদের মস্তিষ্কে বোমার স্প্লিন্টার ঢুকে যায়। আজাদকে সিলেট থেকে ঢাকা এবং ঢাকা থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে পাঠানো হয় ।তার শারীরিক অবস্থার কোন উন্নতি না হওয়ায় 29 মার্চ দেশে ফিরিয়ে আনা হয় ।31 মার্চ রাতে আবুল কালাম আজাদ শহীদ হন ।ওই দিন বিকেলে বনানী সামরিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। বর্তমানে যারা দেশের জন্য জীবন দিতে পারে তারা অন্য গ্রহের মানুষ ।অসাধারণ বীর শহীদ সকলের কাছে চির স্মরণীয় বরণীয় ।জঙ্গিবাদ আজ পাকিস্তান আফগানিস্তান,লিবিয়া,সিরিয়া,ইরাক প্রভৃতি দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এনেছে।লক্ষ লক্ষ মানুষ আত্মঘাতী বোমা হামলায় মারা যাচ্ছে।আমাদের দেশে একই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ।রাষ্ট্রের সকল সচেতন জনগণ ও রাষ্ট্র শক্তি দিয়ে এদের নির্মূল করা যাচ্ছে না। ###লেফটেন্যান্ট কর্নেল আজাদ এর আত্মত্যাগ যদি আমরা গভীরভাবে উপলব্ধি না করি। তবে ভবিষ্যতে আমাদেরকে অনেক মূল্য দিতে হবে ।তাই আসুন আমরা নিজের স্বার্থে,দেশের স্বার্থে,দেশকে সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ মুক্ত রাখতে আজাদের আত্মদানকে গভীরভাবে স্মরণ করি।তার প্রতি ও তার পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে দোয়া করি হে আল্লাহ তুমি আজাদকে শহীদের মর্যাদা দিয়ে তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করো। ###পরিশেষে বলি,”উদয়ের পথে শুনি কার বাণী,ভয় নাই ওরে ভয় নাই,নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই” “স্বশ্রদ্ধ চিত্তে স্বরি, হে মহান বীর সেনানী ।পরম করুনাময়ের দরবারে প্রার্থনা জানাই আজ ।স্বর্গীয় দীপ্তিময় হোক আজাদের পরকালের জীবন।” আমিন।।। সুরাইয়া সুলতানা শর্মী শহীদ আবুল কালাম আজাদ এর সহধর্মী

Flag Counter

December 2019
M T W T F S S
« Nov    
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031