Menu

লেজার ট্রিটমেন্ট: কার্যকর নাকি ক্ষতিকর?


লাইফস্টাইল ডেস্কঃ
বহুদিন ধরেই মুখে ভীষণ ব্রণ, সঙ্গে লোমেরও বেশ সমস্যা। কত ওষুধ খেলেন, কত প্রসাধনী মেখে ফেললেন, শহরের নামীদামী চিকিৎসককেও দেখালেন। কোনো কাজ তো হচ্ছে না, দিনে দিনে রোগ বরং বেড়েই চলেছে। এই এদিকে চেহারা নষ্ট হচ্ছে, লোকেও কত কথা বলছে। এই অবস্থায় কি করবেন ভেবে পাচ্ছেন না। এমন সময়ে কোনোভাবে জানতে পারলেন লেজার ট্রিটমেন্টের কথা। তবে এ ব্যাপারে অনেকে বলছে অনেক কথা। কেউ বলছে এটা কার্যকরী, কেউ বলছে এটা ক্ষতিকর। কেউ তো ক্যানসার আশঙ্কার কথাও বলে ফেললো। এই চিকিৎসা আসলেই ক্ষতিকর নাকি কার্যকর, তা নিয়ে আজকের আলোচনা-
কেন লেজার ট্রিটমেন্ট
মুখের দাগ, ব্রণ, রুক্ষতা থেকে বাঁচতে, লোম সরাতে, চুল গজাতে, মেদ কমাতে কম চেষ্টা তো করেননি আপনি। সবচেয়ে ভালো ক্রিম, প্রসাধনী, চিকিৎসা করিয়েও আপনি সন্তুষ্ট হতে পারছেন না। মোট কথা, বাজারের কেমিক্যাল প্রসাধনীতে আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন। এই অবস্থায় একেবারে শেষ চেষ্টা বলতে সবার আগে মাথায় আসবে লেজার ট্রিটমেন্টের কথা। লেজার ট্রিটমেন্ট সৌন্দর্যচর্চায় ভিন্নমাত্রা এনেছে।
এটি এমন চিকিৎসা পদ্ধতি যার মাধ্যমে ত্বকের সৌন্দর্য ধরে রাখা বা বাড়িয়ে তোলা অথবা বডি শেপিং করা-সবই সম্ভব। এর জনপ্রিয়তার মূল কারণ এটি ব্যথামুক্ত এবং কোনো কাটাছেড়া ছাড়াই করা যায়। তাই এর গ্রহণযোগ্যতা বেশি। এর জন্য পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও রয়েছে।
অনেক লেজার বিশেষজ্ঞ লেজারের মাধ্যমে অবাঞ্ছিত লোম অপসারণের পাশাপাশি তিন থেকে ছয় মাস পর্যন্ত চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। লেজার এবং ওষুধ একসঙ্গে অধিক কার্যকর। তবে হরমোনজনিত চিকিৎসার ক্ষেত্রে অবশ্যই রোগীকে যে কোন হরমোন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। তাই শরীরের অবাঞ্ছিত বা অধিক লোম অপসারণ করার ক্ষেত্রে অবশ্যই ভালো করে চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে এ কথাটি সব সময় মনে রাখতে হবে লেজার মূলত স্থায়ী ব্যবস্থা নয়। শুধু মুখের অবাঞ্ছিত লোম অপসারণ নয়, লেজার চিকিৎসার মাধ্যমে মুখের লাবণ্যতা তৈরি, ব্রণ চিকিৎসা, দাগতোলা কোনটিই স্থায়ী নয়।
ক্যানসারের আশঙ্কা কতটুকু
আধুনিক বিজ্ঞানে লেজার ট্রিটমেন্ট অনেক সহজ আর বিশ্বাসযোগ্য হয়েছে। অনেক রোগের চিকিৎসাও লেজার ট্রিটমেন্টে নিরাময় হয়। তবে অনেক বিজ্ঞানীরাই বলছেন, লেজার ট্রিটমেন্ট ডেকে আনতে পারে ভয়াবহ সমস্যা।
সেটা সময় এবং পরিস্থিতিভেদে। খুব কম বয়সে বা অদক্ষ হাতে লেজার করলে ত্বকের সঙ্গে শরীরের ভেতরেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিডনি, লিভার, ওভারির মত গুরুত্বপূর্ণ অংশ নষ্ট হয়ে যেতে পারে চিরতরে। ২০১৩ সালে পাশের দেশ ভারতে একটা জরিপে হয়। সেখানে দেখা গেছে, ভুলভাবে লেজার করার ফলে ২ হাজারের অধিক নারীকে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।
লন্ডনের ৫ গবেষণা প্রতিষ্ঠান একত্র হয়ে ২ বছরের দীর্ঘ গবেষণা চালায়। সেখান থেকে জানা যায়, শরীরের যে অংশে লেজার করা হয় তা বেশ সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। তাই চিকিৎসা পরবর্তী সময়ে নির্দিষ্ট নিয়মে শরীরের যত্ন না নিলে সব অঙ্গ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। শুধু তাই নয়, অতিরিক্ত লেজার করার ফলে ক্যানসারের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। বাংলাদেশ, ভারতের মত উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে লেজার ট্রিটমেন্ট করার ফলে বেশীর ভাগ রোগীকেই পড়তে হচ্ছে নানান সমস্যায়।
ত্বক বিশেষজ্ঞেরা জানান, লেজার ট্রিটমেন্ট নিয়ে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত হতে হয়। উন্নত যন্ত্র ও সঠিক তাপমাত্রায় লেজার ট্রিটমেন্ট করার পাশাপাশি রোগীর শারীরিক অবস্থাকেও গুরুত্ব দিতে হবে। না হলে লেজার করা স্থানে অনেক নতুন সমস্যা দেখা দিতে পারে।

August 2019
M T W T F S S
« Jul    
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031  

Flag Counter