Menu

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৃষ্টি দিলেই ফিরে পাবে স্বাভাবিক জীবন শিশু তাসফিয়া

বিএসএমএমইউ থেকে ঘুরে এসে কপোত নবী : চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার সাড়ে চার বছর বয়সী ফুটফুটে শিশু তাসফিয়া জাহান মনিরা। জন্মের পর থেকেই সে আক্রান্ত হয়েছে বিরল রোগে। শিশুটির শরীরে গজাচ্ছে পশুর মতো লোম। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিস্তৃত হচ্ছে এই রোগ। তার শরীরের চার ভাগের তিন ভাগ অংশেই লম্বা কালচে মোটা পশুর লোম গজিয়েছে। বর্তমানে তাসফিয়া বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালে বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের ব্লক-সি’র ৩নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলার গোডাউন পাড়ার মাসুদুজ্জামান মামুনের ছোট মেয়ে তাসফিয়া জাহান মনিরা। বাবা মামুন পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। জন্ম থেকেই তার সারা শরীরের কিছু অংশ লম্বা কালচে পশমে আবৃত। এখন গোটা শরীরজুড়ে সেটার বিস্তার ঘটছে, এমনকি মুখের মধ্যেও। আছে চোখের ভিতরেও।

শিশু তাসফিয়ার বাবা মামুন এ প্রতিবেদককে জানান, জন্মের মাত্র ছয় দিনের শিশুকন্যা তাসফিয়াকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসকদের একটি দল মেডিকেল বোর্ড বসিয়ে তাঁরা এটিকে বিরল চর্ম রোগ বলে শনাক্ত করেছেন এবং শিশুটির অন্তত ৩/৪ বছর বয়স হলে উন্নত চিকিৎসার করার জন্য ঢাকা অথবা ভারতে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন চিকিৎসকেরা। সেই অনুযায়ী চলতি মাসের ৬ তারিখ ঢাকায় এসে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

২১ সেপ্টেম্বর শনিবার দুপুরে সরেজমিনে বঙ্গবন্ধু হাসপাতাল গিয়ে আলাপকালে তাসফিয়ার মা তানজিলা খাতুন বলেন, জন্মের পর মেয়ের (তাসফিয়া) শরীরের পেছনে ছোট্ট একটি তিল ছিল। বয়স যখন ৬ মাস পার হলো, তখন তিল ফেটে লোম বের হয়। এরপর বেশ কয়েকদিন ওই স্থান থেকে দুর্গন্ধ ও পুজ বের হতে লাগলো, এরপর আবার স্বাভাবিক হয়েছে গেল। ১ বছর পর তাসফিয়ার সারা শরীরে তিল দেখা দিলো। পরে শরীরের পেছনের দিকের তিলটা বড় হতে লাগলো, মনে করছিলাম তিল বা জরুণ। পরে এলাকার চিকিৎসকদের কাছে যায়। এতেও কোন কিছু হয়নি। এই থেকে এ পর্যন্ত শরীরের পেছনের দিকে লোম ছড়িয়ে পড়লো। তিনি বলেন, তাসফিয়া স্বাভাবিকভাবে কাপড় পরলেও মাঝে-মাঝে শরীরের তাপ বেড়ে যায়। এ সময় সে শরীরে কাপড় রাখতে পারে না। আবার মাঝে মধ্যে চুলকানিও হয়।

চিকিৎসা সেবা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গ্রামে থাকাকালীন মেয়ের চিকিৎসা খরচ তার বাবা করেছেন। ঢাকায় আসার পর চিকিৎসার সব খরচ বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কর্তৃপক্ষ বহন করছেন। মেয়ের চিকিৎসা সেবায় মেডিকেলের চর্ম ও যৌগ বিশেষজ্ঞ ডা. শহিদুল্লাহ সিকদার নিজেই দায়িত্ব নিয়েছেন। বর্তমানে ১০-১২টি রিপোর্ট করা হয়ে গেছে। শনিবার টেস্টের জন্য তাসফিয়ার শরীরের চামড়া পরীক্ষা করার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

তাসফিয়ার বর্তমান অবস্থা নিয়ে চিকিৎসকের উদ্ধৃতি দিয়ে মা তানজিলা বলেন, চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে দেখছেন, রিপোর্ট ও দিচ্ছে। এখনো সুনির্দিষ্ট কিছুই বলেননি চিকিৎসকরা। তাসফিয়ার বাবা মার আকুল আবেদন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেন তাসফিয়ার চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৃষ্টি দিলেই তাসফিয়া ফিরে পাবে স্বাভাবিক জীবন।

সরাসরি দেখতে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ব্লক-সি (৩ তলা), চর্ম ও যৌন বিভাগ, ওয়ার্ড- ৩ (মহিলা), ঢাকা যোগাযোগ করা যাবে।

Flag Counter

December 2019
M T W T F S S
« Nov    
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031