Menu

খালেদার মুক্তির কর্মসূচি চাইলেন সব নেতা, হতাশ করলেন ফখরুল

বিশেষ প্রতিবেদকঃ

রাজশাহীতে বিএনপির বিভাগীয় মহাসমাবেশে বক্তৃতায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সকল নেতা তাদের বক্তৃতায় আগামীদিনে দুর্নীতির দায়ে কারাগারে থাকা খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে বৃহৎ কর্মসূচি চেয়েছেন। তবে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় কোনো প্রকার কর্মসূচি ঘোষণার বিষয়টি এড়িয়ে বক্তৃতা শেষ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফলে প্রশ্ন উঠেছে- সরকারের উচ্চ মহলের সঙ্গে আঁতাত করে দল চালাচ্ছেন মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ফলে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা তাদের বহুল আকাঙ্খিত সমাবেশে এসে হতাশা ও ক্ষোভ নিয়ে ফিরে যান। সমাবেশ থেকে ফেরার পথেও মির্জা ফখরুলের এমন বক্তৃতার চরম সমালোচনা ও বিষোদাগার করতে শোনা যায়। স্থানীয় নেতারাও দলের মহাসচিবের বক্তৃতা নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

লন্ডনে বসে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বারবার নির্দেশ দেওয়া সত্বেও ঠিক কী কারণে বিএনপি মহাসচিব খালেদার মুক্তির দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণার পথে পা বাড়াচ্ছেন না তা নিয়ে খোদ দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যেই চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া সমাবেশে বক্তৃতায় ফখরুল বারবার দলের নেতাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছিলেন। ফলে নেতাদের মধ্যে দলীয় অর্ন্তকোন্দলের বিষয়টিও পরিষ্কার হয়ে যায়।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আমরা আন্দোলনে নামতে প্রস্তুত রয়েছি। আপনি ঘোষণা দিলে আগামীকালই আমরা রাজশাহী অচল করে দেবো।’

সমাবেশে বক্তৃতায় কেন্দ্রীয় নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে খালেদার মুক্তি ভিক্ষা চাইবো না। আমরা প্রতিজ্ঞা করতে চাই- মাঠের আন্দোলনে নেমে রক্ত দিতে চাই।

মির্জা আব্বাস বলেন, আমরা রাজপথে নেমে আন্দোলন করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে চাই। প্র্রয়োজনে রক্ত দিবো। বাধা আসলে পাল্টা আঘাত করবো। তবুও খালেদা জিয়ার ‍মুক্তির জন্য মাঠে থাকবো।

খোন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, দুর্বার আন্দোলন গড়ে সরকার পতন ঘটিয়ে খালেদা জিয়াকে মুক্তির জন্য কর্মসূচি পালনে আপনাদেরকে মাঠে চাই।

এছাড়া স্থানীয় নেতাদের মধ্যে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও রাসিকের সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু,  মহানগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলনসহ তৃণমূলের নেতারা আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণার জন্য দলের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।

কিন্তু প্রধান অতিথির বক্তৃতায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দু’চারটে বুলি আওড়ানো সরকারবিরোধী কথা ছাড়া তেমন কিছুই বলেন নি। ফলে তার বক্তৃতায় হতাশা প্রকাশ করছেন নেতাকর্মীরা। তারা মির্জা ফখরুল সরকারের নেতাদের সঙ্গে আঁতাত করেছে বলেও অভিযোগ করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজশাহী মহানগর বিএনপির দুই জন শীর্ষনেতা বলেন, আমরা দলের মহাসচিবের কথায় চরম হতাশ হয়েছি। দীর্ঘদিন ধরে এই সমাবেশ করার জন্য আমরা দিনরাত পরিশ্রম করেছি। অথচ সমাবেশে এসে কোনো কর্মসূচি ঘোষণা ছাড়াই যেভাবে দলের মহাসচিব বক্তৃতা শেষ করলেন তাতে নেতাকর্মীদের মনে নানা প্রশ্ন ও সংশয় দানা বাঁধছে।

Flag Counter

January 2020
M T W T F S S
« Dec    
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031