Menu

আ.লীগে বাড়ছে গৃহবিবাদ


নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ। এসময় দলের ভেতর স্বস্তি আর সৌহার্দ্য থাকার কথা। কিন্তু আওয়ামী লীগের ভেতর অনৈক্যের সুর বাজছে। উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গৃহবিবাদ ছড়িয়ে পড়েছে তৃণমূলে। তাছাড়া দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অসুস্থ হওয়ার পর দলের সম্পাদক মণ্ডলীতেও চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। সকলেই তাকিয়ে আছেন দলের সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকে। তার কথা ছাড়া অন্য কারো কথায় আশ্বাস পাচ্ছেন না তৃণমূলের নেতারা।
উপজেলা নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের বিরোধ এখন প্রকাশ্যে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রের মনোনীত প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ করে অনেক স্থানেই বিজয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এরাও আওয়ামী লীগের স্থানীয় পর্যায়ের নেতা। পরাজিত আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছে। দলের সাংগঠনিক সম্পাদকদের কাছে এ ব্যাপারে চিঠিও দিয়েছে অনেকে। গতকাল দলের সম্পাদক মণ্ডলীর সভায় এনিয়ে কথা হয়। কিন্তু কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। আবার অনেক উপজেলায় স্থানীয় এমপিরা কাজ করছেন দলের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে। সম্পাদক মণ্ডলীর একজন সদস্য দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের কাছে জানতে চেয়েছেন, যে সব এমপিরা দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়া হবে? ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, ‘নেত্রী এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন।’ দলের তৃণমূলে ছড়িয়ে পড়া কোন্দল থামাতে সারাদেশে সাংগঠনিক সফরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রেসিডিয়াম। কিন্তু তৃণমূলের নেতারা বলছেন, নেত্রী ছাড়া অন্য কারো কথা শুনতে চায় না কর্মীরা। এই পরিস্থিতিতে করণীয় নির্ধারণে দলের সভাপতির সাথে কথা বলবেন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক।
মাহাবুব উল আলম হানিফ ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় মনোক্ষুণ্ন দুই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, এমন খবর আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের মুখে মুখে। এরা দুজনই তাদের ঘনিষ্টদের বলেছেন, রাজনীতিতে তারা মাহবুব উল আলম হানিফের চেয়ে সিনিয়র। এরা দুজনই মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছিলেন। এরা আশা করেছিলেন যে, সরকার গঠন হলে তারা হয়তো মন্ত্রীত্ব পাবেন। কিন্তু সেটাও তারা পাননি। ওবায়দুল কাদের অসুস্থ হওয়ার পর, মাহবুব উল আলম হানিফ ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হওয়ার ঘটনাকে তারা কাটা ঘাঁয়ে নুনে ছিটা মনে করছেন। শুধু এই দুজন নয়, কাদের অসুস্থ হওয়ার পর দলের সাংগঠনিক সম্পাদকসহ কেন্দ্রীয় নেতারাও দলীয় কার্যালয়ে আসা প্রায় ছেড়েই দিয়েছেন। একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেছেন, ‘কাদের ভাই সকাল থেকেই সবাইকে ফোন করে নানা কাজ দিতেন, দলীয় কার্যালয়ে যেতে বলতেন। এখন সেটা হচ্ছে না।’ তিনি মনে করেন এটা সাময়িক। ওবায়দুল কাদের দেশে ফিরলেই আবার আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে।’
তবে, আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতারা বলছেন অন্য কথা, তারা মনে করছেন, দলের বিরোধ মীমাংসায় একমাত্র ভূমিকা রাখতে পারেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাই। তৃণমূলের একজন নেতা, যিনি উপজেলায় দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন, জানালেন ‘নেত্রী ছাড়া কাউকেই বিশ্বাস করি না। নেত্রী যদি ভিডিও কনফারেন্সেও সবার সাথে কথা বলেন তাহলে সব বিরোধ এক নিমিষেই মিটে যাবে।’

Flag Counter

December 2019
M T W T F S S
« Nov    
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031