Menu

শিবগঞ্জে সরকার দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারণা তুঙ্গে: দিশেহারা বিএনপি-জামায়াত

বিজয় নিউজ বিডি, ১৪ ডিসেম্বর, উপজেলা প্রতিনিধি, শিবগঞ্জ,(চাঁপাইনবাবগঞ্জ ) :
আসন্ন পৌর নির্বাচনে অংশগ্রহনের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র পদে মনোনয়নপত্র দাখিলকৃত ৫ জন প্রার্র্থীর মধ্যে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা শাখা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র ইমানী আলী দলীয় চাপে শনিবার বিকেলে প্রত্যাহার করেছে। অন্যদিকে আরেক বিদ্রোহী প্রার্থি পৌর শাখা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কারিবুল হক রাজিন নির্বাচনী লড়াইয়ের জন্য অনড় রয়েছে। তাই নির্বাচনী প্রচারণা অব্যহত রেখেছে। অন্যদিকে পৌর নির্বাচনকে ঘিরে উপজেলা প্রশাসন আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিত জোরদার করেছে এবং নির্বাচনী মাঠ লেবেল পেন্ডিয়িং রয়েছে বলে দাবি করেন।
এদিকে ইমানীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করায় সরকার দলীয় সমর্থকদের মাঝে এক বিরল উৎসহ লক্ষ করা গেছে। নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছে উদপনার মধ্যদিয়ে। আওয়ামীলীগ মনোনিত প্রার্র্থী ময়েন খান ও আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী কারিবুল হক রাজিনের নির্বাচনী প্রচারণ তুঙ্গে। আর নির্বাচনে অংশগ্রহকারি অন্যতম দল বিএনপি-জামায়াত নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে দিশেহার হয়ে পড়েছে।
এব্যাপারে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী সফিকুল ইসলাম বরাবরই মতো অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনী মাঠ এখনো লেবেল প্লেয়িং হয়নি। আমাদের নেতাকর্মীদের প্রচারণার জন্য মাঠে নামতে দিচ্ছেনা পুলিশ। আমাদের কোন নেতাকর্মীদের মাঠে দেখলেই গ্রেফতার করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, আমরা গ্রেফতার আতঙ্কে রয়েছে। আমাদের নেতাকর্মীরা গ্রেফতার এড়াতে এখনো নির্বাচনী মাঠের বাইরে রয়েছে। বিধায়, আমাদের নেতাকর্মীরা গ্রেফতার আতঙ্কে রয়েছে। সরকার যদি লেবেল প্লেয়িং মাঠ সঠিকভাবে করতে পারেন তাহলে আমরা নির্বাচনী প্রচারণায় নামতে পারবো।mo
এছাড়া পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান জাফর আলী জানান, আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছি। কিন্তু পুলিশের এত অত্যাচার করেছে যার ফলে আমাদের নেতাকর্মীরা এলাকায় বাইরে আত্মগোপনে রয়েছে। এসময় যদি আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে তাহলে আমাদের নির্বাচনী অংশগ্রহন ও প্রচারণা নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছি। আমরা সরকারের কাছে আবেদন করছি যেন লেবেল প্লেয়িং মাঠ করে দেন।
আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী ময়েন খান বলেন, বিজয়ে মাসে আমরা আবারো বিজয় ছিনিয়ে আনবো। আমাদের আওয়ামীলীগের সকল নেতাকর্মী এক হয়ে নির্বাচনী প্রচারণা নেমে পড়েছি। আমি পৌরসভার প্রতিটি গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে যাচ্ছি। সাধারণ ভোটারদের কাছে ভোট ও দোয়া প্রার্থনা করছি। আর এই বিজয়ের মাসে শিবগঞ্জ পৌরসভায় বিপুল ভোটে জয়লাভ করে বিজয়ের পতাকা আকাশে উড়ানো লক্ষ নির্বাচনী মাঠে কাজ করছি।
স্বতন্ত্র প্রার্থী কারীবুল হক রাজিন বলেন, পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র ইমানী আলী তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেয়াতে আমার জন্য আরো ভালো হয়েছে। দলীয় নয়, ব্যক্তিত্বের পরিচয়ে নির্বাচনে লড়ছি। জনসাধারণ প্রমাণ করে দিবে জনসমর্থন কার দিতে। আমি গত পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে ভোটযুদ্ধে লড়াই ৮ হাজারের উপরে ভোট পেয়েছিলাম। সে সময় স্থানীয় নির্বাচন দলীয়ভাবে হয়নি। আরো পৌর এলাকার জনগণ ভালোই ভাবে জানে কাকে পাশে পাবে। তাই আমি সাধারণ ভোটার ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী মাঠে কাজ করছি।
এদিকে শিবগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ এমএম ময়নুল ইসলাম জানান, শুধু পৌরসভা নয়, উপজেলা সব জায়গায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পৌর এলাকা আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের জন্য নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। প্রতিনিয়ত টহল দিচ্ছে পুলিশ। এছাড়া তিনি আরো বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে নাশকতাকারিরা সহিংসতা ঘটানো কোন সুযোগ পাবেনা। নির্বাচনী মাঠ লেবেল প্লেয়িং রয়েছে। নির্বাচনে অংশগ্রহনকারি বিএনপি সমর্থক সফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ৯ টি এবং জামায়াতের নেতা জাফর আলীর বিরুদ্ধে ১৩ টি মামলা রয়েছে। এই মামলা নিয়েই তার নির্বাচনে অংশগ্রহন করছে। তারা গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে রয়েছে। বিএনপি-জামায়াতের যে সব নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই তারপরও গ্রেফতার করা হচ্ছে এমন প্রশ্নে জবাবে ওসি এমএম ময়নুল ইমলাম বলেন, পুলিশ কোন সাধারণ মানুষ বা জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করেনি। গ্রেফতার করেছে বিভিন্ন মামলার আসামীদের। বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রাথি সফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ৯টি ও জামায়াতের নেতা জাফর আলীর বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা রয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণার নামে নাশকতা, সহিংসতা ঘটাবে এটা করতে দেয়া যাবে।
অপরদিকে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের মাঠ লেবেল প্লেয়িং রয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ আচারণবিধি লঙ্ঘণ করেনি এবং কেউ তা লিখিত অভিযোগ করেনি। কোন প্রার্থি যদি আচারণবিধি লঙ্ঘণ করে আর তা যদি লিখিত অভিযোগ পাই তাহলে আইনগত ব্যবস্থ গ্রহন করবো। তিনি আরো বলেন, শিবগঞ্জ পৌরসভার ৯ টি ওয়ার্ডে ১১ টি ভোট কেন্দ্র করা হয়েছে। এই ১১ টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে এখনো ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করা হয়নি। আমি এখনো সব কটি কেন্দ্র পরিদর্শন করিনি। এর মধ্যে যে কটি পরিদর্শন করেছি তার মধ্যে ৪ টি কেন্দ্রকে ঝূঁকিপূর্ণ বলে আশঙ্কা করা যাচ্ছে। এ কেন্দ্রগুলো হলো- চকদৌলতপুর, দেবীরগন, মর্দনা ও মিঠুপুর-জগনাথপুর। এই ৪টি ভোট কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ আশঙ্কা লক্ষ্য রয়েছে।

Flag Counter

April 2021
M T W T F S S
« Feb    
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930