Menu

শিবগঞ্জে আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থীর শক্ত অবস্থান

বিজয় নিউজ বিডি, ২২ ডিসেম্বর, জেলা প্রতিনিধি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ :
২৩ বছর আগে বিএনপির স্থানীয় এমপির চেষ্টায় ইউনিয়ন থেকে পৌরসভায় উন্নিত হয় শিবগঞ্জ পৌরসভা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার ২১ দশমিক ৫ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই পৌরসভায় রয়েছে প্রায় ৪৭ হাজার জনগোষ্ঠি।

গত ১৫ বছরেও দৃশ্যমান কোন উন্নতি ঘটেনি এই পৌরসভায়। জলাবদ্ধতা, ড্রেন, সড়ক বাতি, খানাখন্দ সড়ক ও আবর্জনার মহাসমস্যা থাকলেও প্রায় ২৯ হাজার ভোটারসহ নানান শ্রেনী পেশার প্রায় সবাই গত ১৫ বছরেও আলোর মূখ দেখেনি উন্নয়নের।

উন্নয়নের অঙ্গিকার করে যারা এর আগে ক্ষমতায় এসেছিলেন তাদের উন্নয়ন হলেও পৌরবাসী বরাবরই থেকেছে অন্ধকারে। সড়ক মেরামতের টেন্ডার ও হাট বাণিজ্য ও তাতে বে-নামে অংশ নিয়ে লাভবান হবার পাশাপাশি নামে বে-নামে ও নানা ভাউচারের মাধ্যমে হরিলুট করে গত ১০ বছরের ক্ষমতাসীনরা। পরপর ২ বার ক্ষমতায় এসেও নানান অভিযোগে ও মামলায় ৩ বার হয়েছেন বরখাস্ত ও আটক।

১০ বছরের মধ্যে ৮ বছরই ছিলেন এলাকার বাইরে তারা। পৌরসভায় এসে কেউ পায়নি তাদের (মেয়র)। বিএনপির হাত ধরে এই পৌরসভাটি প্রতিষ্ঠালাভ করার বিষয়টি বিএনপি পন্থীদের কাছে আনন্দের থাকলেও বিএনপির সমর্থনে হওয়া মেয়রের হাতেই সুনাম নষ্ট হওয়ায় ক্ষোভ রয়েছে অনেক বিএনপি নেতাকর্মীদেরই জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়রের বিরুদ্ধে। অনেকে জানান, বিএনপির হাত ধরে এই পৌরসভা সৃষ্টি-বিএনপি সমর্থিত মেয়রের হাতেই অনাসৃষ্টি।

কৌশলী পন্থায় প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছে জামায়াত তাদের নেতা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর জন্য। এলাকাবাসী জানান, Chapai pic. 20-12-15নিত্যনতুন কৌশলে জামায়াত-শিবিরের নেতা কর্মীরা চষে বেড়াচ্ছেন ভোটের মাঠে তাদের প্রার্থীকে জয়লাভের আশায়।

স্বতন্ত্র প্রার্থী জামায়াত নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান (শিবগঞ্জ ইউপি ও পৌরসভা) জাফর আলী, তার দল ও শিবিরের অনেক নেতা কর্মী এবং জামায়াত নারী নেতা-কর্মীরা ফজরের নামাজের পরপরই ছুটে চলেছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে।

সকাল ৯ টার পরে মাঠে ও গনসংযোগে আর দেখা মিলেনা তাদের। তবে শিবগঞ্জ পৌরসভা ও উপজেলা জামায়াত-শিবিরের বেশীর ভাগ নেতা কর্মী নানান ঘটনার মামলায় জড়িয়ে এখনও রয়েছেন জেল হাজতে। সততা নিয়ে জাফর আলীর বিরুদ্ধে তার ঘোর শত্র“রাও কখনও প্রশ্ন তুলতে না পারায় ব্যাক্তি ইমেজে জাফর আলী তার দলের অন্য নেতাদের চেয়ে পরিচছন্ন হওয়ায় ফ্লোটিং ভোটের একটা বড় অংশও তার ভাগে পড়ার সম্ভাবনা থাকায় অন্য প্রার্থীদের চেয়ে এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

কারিবুল হক রাজিন গত নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামীলীগের সমর্থনে নির্বাচন করে পরাজিত হন বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থীর কাছে। জয়লাভ করে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী। সে সময়ে রাজিন ৮ হাজার ১৪ ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদন্দ্বি হয়েছিলেন। জামায়াতের জাফর আলী ছিলেন ৩য় অবস্থানে।

নতুন ভোটার
গত নির্বাচনে শিবগঞ্জ পৌরসভার ভোটার ছিল ২৫ হাজার ৪৪৭। এবার নির্বাচনে ভোটার ২৮ হাজার ৭৭২ জন। সে হিসেবে নতুন ভোটার হয়েছেন ৩ হাজার ৩২৫। এসব নতুন ভোটার ও ফ্লোটিং ভোট পাল্টে দিতে পারে সব ভোটের হিসাব-নিকাশ। তবে, ভোটারদের অভিমত নতুন, সৎ, শিক্ষিত, কর্মঠ ও নিষ্ঠাবান একজনকে মেয়র হিসেবে দেখতে।

নতুন করে হযরানী ও নতুন মামলায় জড়িয়ে দেয়ার আশঙ্কায় সচরাচর মাঠে দেখা মিলছেনা বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সফিকুল ইসলাম ও তার দলের নেতা-কর্মীদের। মেয়র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম রয়েছেন অনেকটা আত্মগোপনে। দলীয় কর্মীদের ক্যাম্পিং, পোস্টারিং আর মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

নিজ এলাকা ছেড়ে রাজশাহীতে স্থায়ীভাবে বসবাসের অভিযোগ রয়েছে আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থী বিশিষ্ট ঠিকাদার ও ব্যবসায়ী ময়েন খানের বিরুদ্ধে। ময়েন খান আওয়ামীলীগ পরিবারের সদস্য হলেও তিনি এতদিন ছিলেন খোলসের মধ্যেই। কখনই তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।

তবে কারো সাথে ব্যক্তি বিরোধ নিয়ে তেমন কোন প্রশ্ন নেই ময়েন খানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে এমপি গোলাম রাব্বানির সাথে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর আসনের এমপি আব্দুল ওদুদ বিশ্বাসের মতবিরোধ থাকায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মঈনুউদ্দীন মন্ডল ও এমপি আব্দুল ওদুদ মনোনয়ন বাণিজ্য করে দলের ত্যাগী নেতা কারিবুল হক রাজিনকে বাদ দিয়ে ময়েন খানকে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী হিসেবে কেন্দ্রে তথ্য প্রেরণ করে মনোনয়ন পত্র পাইয়ে দিয়েছেন।

মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ অস্বীকার করলেও কেন্দ্রে একক প্রার্থীর তথ্য পাঠানোর কথা অস্বীকার করেননি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মঈন উদ্দিন মন্ডল। প্রতিপক্ষের আক্রমনে একটি পাঁ হারান শিবগঞ্জ পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কারিবুল হক রাজিন।

পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এর আগে তৃনমূল নেতা-কর্মীরা কাউন্সিলের মাধ্যমে রাজিনকে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নির্বাচিত করেন এবং এমপি গোলাম রাব্বানী ঐ কাউন্সিলে রাজিনের নাম ঘোষনা করেন।

এখন পর্যন্ত উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দের ময়েনের পক্ষে ভুমিকা পালন করতে দেখা যায়নি। তবে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানী এমপি হওয়ায় তার গনসংযোগে অংশগ্রহন বিতর্কের জন্ম নেয়ার আশঙ্কায় কোন পক্ষেই ভুমিকা নেননি বলে জানান উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি বেনাউল ইসলাম।

রাজিন তার দল থেকে মনোনয়ন না পাওয়ায় এখন বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে লড়ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে এমন কান্ডে ক্ষুব্ধ অনেক নেতা-কর্মী। দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ভোট যুদ্ধ নেমেছেন প্রতিপক্ষের হামলায় পাঁ হারানো পঙ্গু রাজিনের পক্ষে অনেক নেতাকর্মী, তার এলাকাবাসীও একাট্টা রাজিনের পক্ষে।

আওযাশীলীগের এই বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন বেশ শক্ত অবস্থানে। এই অবস্থায় এই পৌরসভায় ত্রিমূখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। বিএনপি’র প্রার্থী মোঃ সফিকুল ইসলাম,আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী কারিবুল হক রাজিন (স্বতন্ত্র) ও জামায়াত নেতা (স্বতন্ত্র) জাফর আলীর মধ্যে ত্রিমূখী লড়াই হবে বলে অনেক ভোটারেরই অভিমত।

বিএনপি ধানের শীষ প্রতিকের সফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অসততা ও গাফলতি নিয়ে কারো অভিযোগ নেই বললেই চলে। তিনি জানান, স্বচ্ছভাবে নির্বাচন হলে তারই জয়লাভ নিশ্চিত। নেতা কর্মীরা মাঠে হয়রানী ও আটকের ভয়ে অনেকেই কাজ করতে পারছেন না বলে জানান তিনি। পে¬য়িং লেভের ফিল্ডেরও প্রতাশা করেন তিনি। তবে সাবেক এমপি অধ্যাঃ শাহজাহান মিঞার ঘোর শত্র“রাও মনে করেন শাহজাহান মিঞা ভোটের কারীগর। তিনি মাঠে নামলেই ধানের শীষ মার্কা প্রার্থীর জযলাভ তরাম্বিত করে তুলবে।

এই প্রতিকের অবস্থা সাধারণ ভাবে ভাল বলা গেলেও একেবারেই সুনিশ্চিত নয়। তাই সাবেক এমপি অধ্যাঃ শাহজাহান মিঞার উপরই নির্ভর করছে ধানের শীষের ভাগ্য, এমন অভিমত মাঠ পর্যায়ের বিএনপি সমর্থকদের।

কারিবুল হক রাজিন ও তার সমর্থকরা নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ময়েন খানকে আমলেই নিতে চান না। মনোনয়ন নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ ও প্রার্থী বাছাইয়ে জেলা আওয়ামীলীগ এমন সিদ্ধান্ত নেয়ায় বলীর স্বীকার রাজিন নয় দলই বলীর স্বীকার হয়েছে বলে জানান আওয়ামীলীগের অনেক নেতাকর্মী।

তবে ময়েন খান আটঘাট বেঁধে ভোট যুদ্ধে নেমে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন, তার সমর্থনে আওয়ামীলীগ নেতা খাইরুজ্জামান লিটন গত রবিবার শিবগঞ্জে এক সভায় উপস্থিত থেকে নেতা কর্মীদের এক হয়ে কাজ করা আহ্বান জানান। প্রকৃত ফলাফল জানতে পৌরবাসীকে অপেক্ষা করতে হবে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। শেষ পর্যন্ত লড়াইটা চতুরমূখি হলে ও আশ্চর্যের কিছু থাকবেনা।

এই পৌরসভায় সংরক্ষিত আসনে ১৪ জন ও সাধারন আসনে কাউন্সিলর পদে ৩৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিজয়ের এই মাসে ভোটযুদ্ধে জয়ী হয়ে কে হাসবে বিজয়ের হাসি এটি দেখার জন্য আরো ৯ দিন (২১-৩০ ডিসেম্বর) অপেক্ষা করতে হবে ভোটার ও পৌরবাসীকে।

প্রার্থীদের শিক্ষা যোগ্যতা
এই পৌরসভায় মেয়র প্রার্থীদের সবাই উচ্চ মাধ্যমিক পাশ বা তার উপরে হবার বিষয়টি সুখবর হলেও কাউন্সিলর প্রার্থীদের ৮০ ভাগই হাই স্কুল পেরোতে পারেননি। গত নির্বাচনে মেয়র পদে অংশ নেয়া অল্প শিক্ষিতদের মত এবার তেমন অল্প শিক্ষিতদের দেখা যায়নি।

হলফনামায় দেয়া তথ্যের বাইরে অনুসন্ধানে জানা গেছে, সংরক্ষিত ও সাধারন আসনের কাউন্সিলর প্রার্থীদের শিক্ষাযোগ্যতা নিয়ে। পাবলিক পরীক্ষায় সফলতা যেখানে শতভাগ ছুঁই ছুঁই, সেখানে ৪৪ বছরেও এসব জনপ্রতিনিধিদের শিক্ষার উন্নতি না ঘটার বিষযটি দূঃখজনক।
২ ভাইয়ের ভোট যুদ্ধ-
৫ ডিসেম্বর রাতে পুলিশের হাতে আটক হন সাধারণ আসনে ৭ নং ওয়ার্ডের প্রার্থী ও স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপি সাধারন সম্পাদক আক্কাশ আলী। ৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি ও আক্কাশ আলীর বড় ভাই আব্দুর রহিম রানাও মনোনয়নপত্র দাখিল করেন একই ওয়ার্ডে সাধারণ আসনে ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য।

গত নির্বাচনেও ২ ভাই একই ওয়ার্ডে সাধারণ আসনে ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এবার স্বজনদের চাপে পড়ে আব্দুর রহিম রানা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। কিন্তু এখনও জেল থেকে ছাড়া পাননি ও জামিন পাননি আক্কাশ আলী। জেলা বিএনপি‘র সভাপতি ও বিএনপির সাবেক এমপি অধ্যাপক মোঃ শাহজাহান মিঞা জানান, তার দলের স্থানীয় নেতা আক্কাশ আলীর বিরুদ্ধে আগে কোন মামলা না থাকলেও হয়রানী করতে তাকে আটক করা হয়।

আক্কাশ আলীর বড় ভাই আব্দুর রহিম রানা জানান, তার ভাই আক্কাশ আলীর বিরুদ্ধে এর আগে কোন মামলা ছিলনা, অথচ তাকে আটক করে পুরোনো একটি মামলায় আটক দেখিয়ে জেল হাজতে প্রেরন করে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ।
সন্ত্রাসের আরেক জনপদে ২ ভাইয়ের ভোট যুদ্ধ
স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতা আব্দুস সালাম ৯ ওয়ার্ডে সাধারন আসনে ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে প্রতিদন্দ্বিতা করছেন। একই ওয়ার্ডে তার ভাই জামায়াত কর্মী বলে পরিচিত আব্দুর মতিনও কাউন্সিলর হিসেবে প্রতিদন্দ্বিতা করছেন।

আব্দুল মতিনের প্রতীক পাঞ্জাবী আর আব্দুস সালামের প্রতীক হচ্ছে উটপাখি। সন্ত্রাসের আরেক জনপদ হিসেবে খ্যাত মর্দানা ৯ নং ওয়ার্ডভূক্ত। এ ওয়ার্ডে আরেক প্রার্থী হচ্ছেন খাইরুল আলম জেম। যিনি লড়ছেন পানির বোতল প্রতীক নিয়ে।

আব্দুস সালাম এর আগে কাউন্সিলর পদে ২ বার নির্বাচিত হলেও গত নির্বাচনে ফলাফল নিয়ে প্রতিদ্বন্দি প্রার্থী সফিকুল ইসলাম পাশবান বিতর্কের অভিযোগ এনে মামলা করায় তিনি মামলায় জিতলেও আপিলে হেরে যান।

সফিকুল ইসলাম পাশবান ও আব্দুস সালাম গ্র“পের মধ্যে গত ঈদের আগে ও পরে দফায় দফায় অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, হামলা, হত্যা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে নিহত হয় একজন, আহত হন অন্তত ৫০ জন। ঐ এলাকায় মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ, করা হয় পুলিশের অস্থায়ী ক্যাম্প। দফায় দফায় অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, হামলা, হত্যা ও সংঘর্ষের ঘটনা পাল্টাপাল্টি মামলা হয় শিবগঞ্জ থানায়।
ভোট ম্যাজিকের আশঙ্কা
মেয়র পদে নৌকা প্রতিকের প্রার্থীর সমর্থকরা ছাড়া বাকী ৩ মেয়র প্রার্থীর সমর্থকরা ভোট ম্যাজিকের আশঙ্কা করছেন। ৩ মেয়র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে কয়েকজন জানান, যদি স্বচ্ছ ভোট হয় তবে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর জয়লাভের সম্ভাবনা খুবই কম। আর যদি স্বচ্ছ না হয়ে ম্যাজিক হয় তবে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জয়লাভ হলেও হতে পারে। মেয়র পদে ৪ প্রার্থীই তাদের জয়লাভে শতভাগ আশাবাদী বলে জানান।
ওরা পাঞ্জাবী
৯ টি ওয়ার্ডে সাধারণ আসনে প্রার্থী রয়েছে ৩৩ জন। ১ ও ৮ নং ওয়ার্ডে পাঞ্জাবী খুঁজে পাওয়া না গেলেও বাকী ৭ টি ওয়ার্ডেই রয়েছে পাঞ্জাবী।

বিজয়ের এই মাসে এতো পাঞ্জাবীর আবির্ভাব কারা ঘটালো। অনুসন্ধান ও এলাকাবাসীর তথ্য মতে পাঞ্জাবী মার্কা ওয়ালারা সবাই জামায়াত-শিবিরের সাথে জড়িত। এই ৭ জন প্রার্থী সাধারন আসনে ভোট করার জন্য মার্কা হিসেবে বেছে নেন পাঞ্জাবী।

রহনপুর পৌরসভা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার এই পৌরসভায় মোট প্রার্থী ৩ জন। তাই দলীয় প্রতীকের বাইরে সুযোগ নেই লড়ায়ের। তবে বিগত নির্বাচন গুলোর মতো এবারের নির্বাচনে বিএনপি’র একাধিক প্রার্থী না থাকায় অনেকটা এগিয়ে রয়েছে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী।

অন্যদিকে আওয়ামীলীগ ঘাঁটি হিসেবে চিহ্নিত এই পৌরসভায় আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র উতরে গেলে থাকবেনা বিষ্ময়ের কোন অবকাশ। এই পৌরসভায় মেয়র প্রার্থীরা হলেন গোলাম রাব্বানী,তারিক আহমদ ও জামায়াত নেতা মিজানুর রহমান (স্বতন্ত্র)।

রহনপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র গোলাম মোস্তফা বিশ্বাস গত সংসদ নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হলে পৌরসভা মেয়র পদে উপ-নির্বাচনে তার ছোট ভাই গোলাম রাব্বানী বিশ্বাস (বর্তমান মেয়র ) নির্বাচিত হন।

এবারের নির্বাচনে ৯ টি ওয়ার্ডে ১১ হাজার ৮১১ জন নারী ও ১১ হাজার ৪৫৮ জন পুরুষ ভোটারসহ ২৩ হাজার ২৬৯ জন ভোটার তাদের ভোটাধীকার প্রয়োগ করবেন। এই পৌরসভায় সংরক্ষিত আসনে ৮ জন ও সাধারন আসনে কাউন্সিলর পদে ৩৮ জন প্রার্থী প্রতিদন্দ্বিতা করছেন।

Flag Counter

April 2021
M T W T F S S
« Feb    
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930