Menu

শিবগঞ্জে সরকারি জমিতে অবৈধভাবে দোকান ও বাড়ি নির্মাণ : দখলমুক্ত করতে এলাকাবাসী দাবি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা বাজারের সরকারি জমিতে অবৈধভাবে দখল করে দোকান ঘর ও বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। আর সরকারি জমি দখল মুক্তি করতে এলাকাবাসী জোরদাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি আবেদন করেছেন মনাকষা ইউপি’র সাবেক সদস্য সহ কয়েকজন। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন এলাকার প্রভাবশালীদের প্রভাবের কারণে মনাকষা বাজারের দখলমুক্ত হচ্ছে না।

সরজমিনে পরিদর্শন করে দেখা গেছে, মনাকষা বাজার সংলগ্ন ৩৯ নং খতিয়ানের ২৩১৪ ও ২৩১৫ নং দাগের ৩৮শতক জমির মালিক মরহুম আফসার আলী বিশ্বাসের ৪ ছেলে মরহুম আফজার হোসেন, মরহুম দেলওয়ার হোসেন, মরহুম বশির আহমেদ ও মইনুদ্দিন। তবে, এ জমির বাইরে প্রায় ৮শতক মনাকষা বাজারের খাস জমিতে তাঁর বাড়ি তৈরী এবং সাতরশিয়া গ্রামের বদিউর রহামরেন ছেলে মাইনুল ইসলামকে দিয়ে পাকা দোকান ঘর নির্মাণ করছে।

এছাড়া সরকারি জমিতে দু’টি আমের গাছ কেটে নেয়ার অভিযোগ করেছেন সচেতন মহলের এই ব্যক্তিরা। তাঁদের অভিযোগ মনাকষা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাকে অভিযোগ করেও এর প্রতিকার পাওয়া যায়নি। বরং তাঁদের যোগসাজগ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা।
এব্যাপারে জেলা প্রশাসক কাছে আবেদন মনাকষা ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল কাইউম জানান, বাজারের স্থানীয় অতিদরিদ্র ৫/৭ মানুষের নিম্নমানের দোকান ঘর ছিলো মরহুম বশির উদ্দিনের পরিবারের লোকজন ব্যক্তি স্বার্থের জন্য উপজেলা ভূমি কর্মকর্তাকে মিথ্যে অভিযোগ দিয়ে তাদের দোকান ঘর উচ্ছেদ করে দেয়। এই দোকানে ব্যবসা করে ওই সব অতিদরিদ্রদের সংসার চলতো। কিন্তু এখন তাঁরা নিরুপায়।


তিনি আরো জানান, আমরা জানি শুধু এ ৮শতকই নয় মনাকষা বাজারে আরো অনেকেই সরকারের খাস জমি দখল করে পাকা দোকান ঘর সহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মান করেছে। এমননি সরকারী খাস জমি অবৈধভাবে দখল করে অন্যের কাছে মাসিক ও বাৎসারিক চুক্তিতে ভাড়া দিয়ে অর্থ উপার্জন করছে। তাই আমি এই সরকারি জমি মাপ যোগ করে সকল অবৈধ দখল মুক্ত করতে আবেদন করেছি। কিন্তু মাপ যোগের বেশ কিছুদিন হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত মরহুম বশির উদ্দিন পাকা দোকান-ঘর উচ্ছেদ করেননি প্রশাসন। আমরা এতে হতাশা ও বিচলিতবোধ করতে। তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, দরিদ্রদের দোকান-ঘর না জানিয়ে উচ্ছেদ করা হলেও আমাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে মাপ যোগের সরকারের জমিতে পড়া প্রায় ১৩/১৪ ফিট জমিতে মরহুম বশির বশির আহমেদের নির্মিত দোকান কেনো উচ্ছেদ করা হয়না? আমরা অতিদ্রুত এই অবৈধ দখলমুক্তের জোরদাবি জানাচ্ছি।

স্থানীয় জিয়াউল হক চিকু জানান, সি/এস, এস.এ মুলে মাপযোগ করা নাই। সি/এস, এস.এ মুলে ২ দাগে ২৫ শতক জমি হলে ওই জমি ৩১ শতক হবে। যা এটি সরকারি জমি। কিন্তু উপজেলা সার্ভেয়ার ও তহশীলদার প্রভাবশীলদের কাছে প্রভাবিত হয়ে নিজের মতোই মাপযোগ করেছে সীমানা চিহ্নিত করেছে। তারপরও বেশ কিছু দিন হওয়ার সত্যেও এখন পর্যন্ত সরকারি জমি দখলমুক্ত হয়নি। আমার চাই, সরকারের জমি দখলমুক্ত।

এছাড়া স্থানীয়রা জানায়, আমরা দীর্ঘদিন থেকে বাজারে ব্যবসা করে আসছি এবং আফসার আলী বিশ্বাসের ৪ ছেলে মরহুম আফজার হোসেন, মরহুম দেলওয়ার হোসেন, মরহুম বশির উদ্দিন ও মইনুদ্দিন সরকারি জমি দখল করে খাচ্ছে।
এ ব্যাপারে পাকা দোকানঘর নির্মাণকারী মাইনুল ইসলাম জানান, আমি উপরোক্ত অংশীদারদের নিকট হতে ৮শতক জমি ক্রয় করে দোকনঘর নির্মান করছি এবং আমার জমির উপর থাকা গাছ কেটেছি। তিনি আরো বলেন, যেহেতু আমার নিজের জমি তাই ইউপি চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে অবহিত করিনি। তবে মাপের মাধ্যমে খাস জমি প্রমানিত হলে খাস জমি ছেড়ে দিবো। তবে পূর্বের জমির মালিকগণ যেখান থেকে আমাকে দখল দিয়েছে সেখান থেকে আমি বহুদিন থেকে ভোগ দখল করে আসছি।

এব্যাপারে মরহুম বশির আহমেদের ছেলে সারওয়ার জানান স্বপন জানান, আমরা এখানে প্রায় ৫০ বছর ধরে আছি। এবারে আমাদের দোকান ছিল এবং এখনো আছে। আমাদের এখানের ৩৮ শতাংশ থেকে ২৯ শতাংশ হয়ে গেছে। এটি আমরা ৪ বছর আগে জানতে পেরেছি। তাই আমরা জমি ফিরে পেতে উপজেলা ভূমি অফিসে আবেদন করছি। জানি না তা ফিরিয়ে পাবো কি না?

তিনি আরো জানান, আমাদের মার্কেটের কিছু অংশ সরকারের জমিতে পড়ে গেছে। আবেদনের প্রেক্ষিতে আমরা অপেক্ষা করছি। সরকার যেভাবে নির্দেশনা দিবেন, আমরা সেই ভাবে কাজ করবো। যদি সরকার চান, আমাদের মার্কেট সরিয়ে নিতে হবে, তাহলে আমরা তাই করবো।
মরহুম বশির আহমেদের স্ত্রী রওশন আর মুক্তা জানান, আমরা সম্মানি ব্যক্তি। আমরা চাই না যে, আমাদের সম্মানক্ষুণœ হোক। তাই সরকার আমাদের যে নির্দেশনা দিবেন, আমরা সেই আলোকে কাজ করবো।

এব্যাপারে উপজেলা সহাকারী কমিশনার (ভূমি) মো. বরমান হোসেন জানান, আবেদনের অনুলিপি কপি পেয়েছি। বাজার খাস জমিতে কে বা কারা পাঁকা ঘর নির্মাণ করছে, তা জানতে পেরে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। শুধু মনাকষা বাজার নয়, উপজেলার সে সব বাজারে অবৈধ স্থাপনা রয়েছে সে স্থাপনা সরকারের নিদের্শক্রমে অভিযান চালিয়ে উচ্ছেদ করা হবে। এছাড়া মনাকষা বাজারে সরকারি জমির মাপযোগ করা হয়েছে। খাস জমির উপরে সবধরণের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের প্রক্রিয়া রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, স্থানীয়দের হতাশা হবার কোন কারণ নেই। মনাকষা বাজারের খুঁটিনাটি তদন্ত পূর্বক তালিকাভুক্তির কাজ চলছে এবং অবৈধভাবে দখলদারদের নিকট সমস্ত খাস জমি উদ্ধার করা হবে

Flag Counter

October 2019
M T W T F S S
« Sep    
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031