Menu

গত ৩১ বছরে চামড়ার সর্বনিম্ন দাম, ছাগলের চামড়ার দাম ১০ টাকা!

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া কেনার লোক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে, রাজধানীর  মাদ্রাসা ও এতিমখানার লোকজন বিনা পয়সায় কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করছেন। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে। রাজধানীর বাইরে সবচেয়ে ভালো মানের কাঁচা চামড়া বিক্রি হচ্ছে ৬শ টাকায়। আর মাঝারি মানের চামড়া বিক্রি হচ্ছে ৩শ থেকে ৫শ টাকার মধ্যে। যা গত বছরও ৭শ থেকে ৮শ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত ৩১ বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে কমদামে বিক্রি হচ্ছে পশুর চামড়া। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ৮০ হাজার টাকার গরুর চামড়ার দাম দিচ্ছেন ২শ টাকারও কম। এক লাখ টাকার গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে ৩শ টাকা।

প্রসঙ্গত, বিগত বছরগুলোতে নামাজের পরপরই বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় অসংখ্য মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীর ভিড় দেখা গেলেও এবার তাদের দেখা মেলেনি।

ঈদের দিন সোমবার (১২ আগস্ট) সকালে সরেজমিন রাজধানীর মানিক নগর, সবুজবাগ, রায়েরবাগ এলাকার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ঘুরে দেখা গেছে, কোরবানি করা বেশিরভাগ পশুর চামড়া রাস্তায় পড়ে আছে। বেলা ১১টা পর্যন্ত কোরবানি সম্পন্ন হওয়া পশুর চামড়াগুলো কেনার জন্য তখনও কেউ আসেননি।

এদিকে, রাজশাহীর বাঘায় ১০ টাকা দরে প্রতিটি ছাগলের চামড়া বিক্রি হয়েছে। সোমবার দুপুরে কোরবানির পশুর চামড়া ফড়িয়ারদের গ্রামে গ্রামে ঘুরে ঘুরে চামড়া কিনতে দেখা দেখা গেছে।

এ বিষয়ে আড়ানী গোচর গ্রামের ফড়িয়ার চামড়া ব্যবসায়ী আরিফুর রহমান বলেন, চাহিদা না থাকায় বকরি ছাগলের একটি চামড়া ১০ টাকা দরে ক্রয় করছি। এ দামে কিনে নিয়ে স্থানীয় আড়তে বিক্রি করব। পরিবহন খরচ বাদ দিয়ে একটি ছাগলের চামড়ায় দুই টাকা লাভের আশা করছি।

সরকারের নির্ধারণ করে দেওয়া দাম অনুযায়ী, ঢাকায় কোরবানির গরুর প্রতিটি ২০ থেকে ৩৫ বর্গফুট চামড়া লবণ দেওয়ার পরে ৯০০ থেকে ১ হাজার ৭৫০ টাকায় কেনার কথা ট্যানারি মালিকদের। কিন্তু, রাজধানী ঘুরে জানা গেছে, এবার ফড়িয়া বা মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের দেখা মিলছে না। কোথাও কোথাও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় চামড়া কিনেছেন। আর রাজধানীর বাইরে দেশের অন্যান্য স্থানে চামড়া বেচা-কেনা হচ্ছে আরও কম দামে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবার চামড়ার দামে মহাবিপর্যয় নেমে এসেছে।

এ প্রসঙ্গে মানিক নগর এলাকায় মাওলানা আবদুর রহিম বলেন, ‘আমরা দানের কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করছি। যেহেতু এবার চামড়ার দাম কমে গেছে। এ কারণে মানিক নগর এলাকায় মৌসুমি ব্যবসায়ীরা হয়ত চামড়া কিনছে না। ফলে এই এলাকার কোরবানিদাতারা কাঁচা চামড়া দান করতেই স্বাচ্ছন্দবোধ করছেন।’

পাবনা জেলার ভাঙ্গুড়ার মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী রইচ উদ্দিন বলেন, ‘এখানেও সবচেয়ে ভালো মানের কাঁচা চামড়া ৬০০ টাকায় কেনা সম্ভব হয়েছে। ৩১ বছর আগে ১৯৮৯ সালে কোরবানিদাতারা ৭০০ টাকায় চামড়া বিক্রি করেছেন। এবার সেই মানের চামড়া কেনা সম্ভব হয়েছে ৩০০ টাকারও কম দামে।’

রাজধানীর রায়ের বাগ এলাকার বাসিন্দা রূপচান্দ বলেন, ‘অন্যান্য বছর সকাল ১০টার মধ্যে মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনে থাকেন। কিন্তু, এখন সাড়ে ১১টা বাজে। এখন পর্যন্ত চামড়া কেনার জন্য কোনও লোকজন আসেনি।’

মানিক নগর এলাকায় গতবছর কাঁচা চামড়া যারা কিনেছিলেন, তাদের একজন জাবেদ (মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী)। তিনি বলেন, ‘এবার আমরা চামড়া নিচ্ছি না। বাজার খুব খারাপ। পোস্তার পাইকারি ব্যবসায়ীরা এবার আগে থেকে সাবধান করে দিয়েছেন। লবণ লাগিয়ে মাখিয়ে কয়েকদিন রেখে দিতে বলেছেন। সরকার চামড়ার যে দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে, পোস্তার ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতে চামড়ায় ত্রুটি দেখিয়ে সেই দাম দেয় না। এজন্য এত ঝুঁকি নিয়ে চামড়া না কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

এদিকে ঢাকার বাইরেও চামড়া নেওয়ার লোকজন না থাকার কারণে অনেকে বাধ্য হয়েই স্থানীয় মাদ্রাসায় দান করে দিচ্ছেন। তবে এরমধ্যেও যেসব মৌসুমি ব্যবসায়ী চামড়া কিনছেন, তারা খুবই অল্প দামে চামড়া কিনছেন। তবে সরকারের নির্ধারণ করে দেওয়া দামের চেয়েও অনেক কম।’

অবশ্য ২০১৮ সালের কোরবানির মতো এবারও চামড়া কিনে যাতে বিপদে না পড়েন, সেজন্য মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের আগেভাগেই সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চামড়া খাত সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত উল্লাহ মৌসুমি বলেন, ‘মৌসুমি ব্যবসায়ীরা যেন চিন্তাভাবনা করে এবার চামড়া কেনেন। কারণ, আমরা মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সরাসরি চামড়া সংগ্রহ করছি না। তবে যারা লবণ দেবেন, তাদের কাছ থেকে আমরা চামড়া নেবো।’

এ প্রসঙ্গে কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমাদের হাতে এই মুহুর্তে সব চামড়া কেনার মতো টাকা নেই। ফলে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এবার সব চামড়া হয়ত আমরা কিনতেই পারবো না।’ তিনি মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে বলেন, ‘যেসব মৌসুমী ব্যবসায়ী চামড়া কিনবেন, তারা যেন ঈদের দিন চামড়া বিক্রি করার কথা মাথায় না রাখেন। তারা যেন চামড়ায় ভালোভাবে লবণ দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে চামড়া কেনেন।’

প্রসঙ্গত, এবার গরুর কাঁচা চামড়ার দাম ঢাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি বর্গফুট ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। ঢাকার বাইরে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। সারাদেশে খাসির চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি বর্গফুট ১৮ থেকে ২০ টাকা এবং বকরির চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয় প্রতি বর্গফুট ১৩ থেকে ১৫ টাকা।

Flag Counter

January 2020
M T W T F S S
« Dec    
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031